মেসির অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার ছবি উঠে এল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে তীব্র ফারাক তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আজ যুবভারতীতে সরেজমিনে পরিদর্শনে যেতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর গঠিত তদন্ত কমিটি। ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও।
এই ঘটনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে শনিবারই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আজ তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। মেসির অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত অব্যবস্থা, নিরাপত্তার ঘাটতি এবং দর্শকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।
যুবভারতী কাণ্ডে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
শুধু এক ঝলক প্রিয় ফুটবলারকে দেখার আশায় হাজার হাজার মানুষ টিকিট কেটে যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু মাঠে ঢুকেও মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। অভিযোগ, মাঠের ভেতরে মেসিকে ঘিরে রাখেন মন্ত্রী, ভিআইপি ও সেলিব্রিটিরা। সাধারণ দর্শকদের জন্য কোনও সুযোগই রাখা হয়নি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শুরু হয় ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা।
এক মেসি-ভক্ত আক্ষেপ করে বলেন, “এক ঝলকও দেখতে পেলাম না। চারদিকে শুধু নিরাপত্তার লোক আর ভিআইপি। এত টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এসে এটাই যদি হয়, তাহলে এই আয়োজনের মানে কী?” শুক্রবার রাত পর্যন্ত যেখানে স্লোগান উঠছিল ‘কলকাতায় মেসি’, শনিবার দুপুর গড়াতেই সেই স্লোগান বদলে যায়—‘কলকাতা মেসি নয়, মেসি’!
বঞ্চিত সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা
ফুটবলের রাজপুত্রের সফরে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হলেন সাধারণ দর্শকরাই। হাজার হাজার টাকা খরচ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রিয় তারকাকে দেখার সুযোগ পাননি তাঁরা। অভিযোগ উঠছে, গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে পরিকল্পনার ঘাটতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতা ছিল। যুবভারতী যেন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এখন বড় প্রশ্ন—এত বড় অশান্তি তৈরি হওয়ার পরেও পুলিশ কেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারল না? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে এই ধরনের তারকা অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় কড়া নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও তৎপরতার কারণে। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীরা সর্বক্ষণ দর্শকদের দিকেই নজর রাখেন। সামান্য গোলমাল দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অথচ শনিবার যুবভারতীতে সেই তৎপরতা চোখে পড়েনি বলেই অভিযোগ উঠছে।
এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই এবার নজর তদন্ত কমিটির।


