Tiktiki Truth Signal: তর্ক-বিতর্কের সময়ে হঠাৎ টিকটিকির টিকটিক ডাক অনেকেরই কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, কোনও সত্যি কথা বলা হলে টিকটিকি নাকি সহমত জানিয়ে ডেকে ওঠে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে শাস্ত্রীয় দৃষ্টিতে টিকটিকির ডাকে নানা প্রতীকী ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যা এখনও অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন।
জ্যোতিষশাস্ত্রে টিকটিকির ডাকে শুভ-অশুভের বহু ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে বলে মনে করা হয়। দিনের কোন সময়ে, কী পরিস্থিতিতে এবং কোন অবস্থায় টিকটিকি ডাকছে—এসবের ওপর ভিত্তি করে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। দিনের শুরুতে, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠতেই যদি টিকটিকির ডাক শোনা যায়, তাকে অত্যন্ত শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এটি মনে করা হয় যে নতুন দিনের কর্মযজ্ঞে বাধা-বিপত্তি কম আসবে এবং মনের জোর বাড়বে।
আবার দিনের শেষে রাতে শুতে যাওয়ার ঠিক আগে যদি টিকটিকি ডেকে ওঠে, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী তা সতর্কবার্তা। শাস্ত্রমতে এটি ইঙ্গিত দেয় যে কোনও ব্যক্তিগত বা গোপন বিষয় অন্যের কাছে পৌঁছে যেতে পারে অথবা এমন কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যেখানে সাবধান থাকার প্রয়োজন।
বাড়িতে লাগালেই দৌড়বে ঝিমিয়ে থাকা ভাগ্য, সংসার ভরবে সুখ-শান্তিতে…
টিকটিকির ডাকের সবচেয়ে রহস্যময় ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তখন, যখন টিকটিকি স্থির হয়ে বারবার ডেকে চলে। জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, কোনও প্রাণী যখন স্থির অবস্থানে একটানা সংকেত দেয়, তখন তা ধৈর্য বা অপেক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এই ডাককে অনেকেই মানসিক বা পরিস্থিতিগত ধৈর্যের পরামর্শ মনে করেন। জীবনে কোনও কাজের সাফল্য দেরিতে এলেও, এই ধরনের ডাককে ‘অপেক্ষার পর ফলপ্রাপ্তি’—এর বার্তা হিসেবে দেখা হয়।
শাস্ত্র যা বলছে
তর্কের মুহূর্তে টিকটিকির ডাক বিশেষভাবে জনপ্রিয় একটি কুসংস্কার হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষের কথা কাটাকাটির মাঝে যদি কোনও এক পক্ষের বক্তব্য উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে টিকটিকি ডেকে ওঠে, অনেকেই মনে করেন যে তার কথাতেই সত্যির ছাপ আছে। যদিও এটি একটি লোকবিশ্বাস মাত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র বা শাস্ত্রীয় সংকেতবিদ্যায় এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এমনকী জ্যোতিষীরাও বলেন, টিকটিকি কোন কথা শুনে বা কোন যুক্তির ভিত্তিতে ডাকে তা প্রাণীর আচরণের নিয়মেই পড়ে, সত্য-মিথ্যা খুঁজে বের করা এতে সম্ভব নয়।

Tiktiki Truth Signal
বিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। প্রকৃতিতে টিকটিকির ডাক মূলত যোগাযোগের মাধ্যম। তারা একে অপরকে সংকেত দিতে, অঞ্চল চিহ্নিত করতে বা হুমকি বুঝতে টিকটিক করে। ঘরের ভৌতিক পরিবেশ বা মানুষের কথাবার্তার সঙ্গে তাদের ডাকের কোনও সম্পর্কই নেই। তবুও সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রভাব এতটাই গভীর যে অনেকেই বিজ্ঞান নয়, বরং ঐতিহ্যগত ধারণাকেই গুরুত্ব দেন। কারণ মানুষের বিশ্বাসের জগৎ অনেক সময় যুক্তির সীমার বাইরে চলে যায়।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা লোকবিশ্বাসে টিকটিকির ডাক কখনও সতর্কবার্তা, কখনও শুভ ইঙ্গিত, আবার কখনও মনের ইশারা হয়ে ওঠে। কোন ব্যাখ্যা বিশ্বাস করবেন, বিজ্ঞান নাকি শাস্ত্র—এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই আপনার মতামতের ওপর নির্ভর করছে।


