15 C
Kolkata
Thursday, January 15, 2026
spot_img

সাত পিটবুলের আক্রমণে মর্মান্তিক পরিণতি দাদু-নাতনির, উদ্ধারকারী দল জানাল নৃশংসতার চিত্র।

আমেরিকার টেনেসি অঙ্গরাজ্যের টালোহোমা শহরে ঘটে যাওয়া পিটবুল-সম্পর্কিত এই ভয়াবহ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মহলে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাত-সাতটি পিটবুল পুষতেন ৫০ বছর বয়সি জেমস অ্যালেক্সান্ডার স্মিথ। তাঁর পোষ্য সারমেয়দের আচরণ নিয়ে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—প্রাণীগুলো প্রায়ই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠত এবং এলাকায় ভয়ভীতি তৈরি করত। এমনকি তাদের কারণে ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগ। তবে জেমস নিজে কখনও এসব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেননি এবং পোষ্যদের আগ্রাসী আচরণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগও নেননি বলে দাবি স্থানীয়দের।

বুধবার বিকেল নাগাদ জেমসের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, জেমস এবং তাঁর তিন মাসের নাতনির কোনও সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না, আর সাতটি পিটবুলই বাড়িতে ঘোরাফেরা করছে। উদ্ধারকারী দল জানায়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাঁদের এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশ সাতটি পিটবুলকে নিধন করে এবং তারপর জেমস ও তাঁর নাতনিকে উদ্ধার করে। দু’জনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দফতরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে পুরো ঘটনাকে “চরম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দফতর জানায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন—জেমস এবং তাঁর নাতনির মৃত্যু ঠিক কীভাবে ঘটেছে, এবং হামলার আগেই তাঁরা অজ্ঞান হয়েছিলেন কি না।

এদিকে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই বাড়ির পোষ্য পিটবুলদের আগ্রাসী আচরণ নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। কেউ কেউ দাবি করেছেন, এরা এলাকার পোষ্য বিড়াল বা ছোট প্রাণীদের উপর আক্রমণ করত। তবুও মালিক সে বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি। স্থানীয়রা বলছেন, যদি কুকুরগুলোর আচরণ নিয়ন্ত্রণে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হত বা নিরাপত্তাবিধি মেনে রাখা হত, তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত।

ঘটনার পর ওই বাড়িতে থাকা আরও কয়েকটি কুকুর এবং পোষ্য প্রাণীকে স্থানীয় অ্যানিম্যাল কন্ট্রোলের মাধ্যমে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ আপাতত জেমসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে এবং ঘটনার পেছনে থাকা সম্ভাব্য কারণগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় বাড়িতে পোষ্য রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন করে ভাবাচ্ছে—পোষ্য হিসেবে উচ্চ-আক্রমণক্ষমতার কুকুর রাখার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা কি আরও কঠোর করা প্রয়োজন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন