নয়াদিল্লি: জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে খিঁচুনি—এই সাধারণ উপসর্গের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে এক ভয়ঙ্কর রোগ। কেরলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এক প্রাণঘাতী সংক্রমণ, যার বৈজ্ঞানিক নাম প্রাইমারি অ্যামিওবিক মেনিঙ্গোএনসেফেলাইটিস। মস্তিষ্কে আঘাত হানায় পরিচিত ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ নামে। পুজোর আগে দক্ষিণের রাজ্যে প্রথম প্রকোপ দেখা দিলেও পরে পশ্চিমবঙ্গেও তার প্রভাব ধরা পড়ে। নায়েগলেরিয়া ফওলেরি নামের এই প্যারাসাইটই রোগটির জন্য দায়ী।
বিশ্বে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০-এর মতো হলেও গত দেড় বছরে কেরলেই আক্রান্ত হয়েছেন ১০০-র বেশি। ২০২৫ সালে এক লাফে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১৭০-এ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী লোকসভায় জানান, কেরলেই এ বছর মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের।
লিখিত জবাবে মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব জানান, ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত কেরলে মোট ২১১ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। ২০২৩ সালে মাত্র ২ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, ২০২৪ সালে সংখ্যা ছিল ৩৯—কিন্তু ২০২৫-এ সেই সংখ্যা হঠাৎ তিনগুণের বেশি বেড়ে ১৭০।
মন্ত্রী জানান, কোঝিকোড়ের এনসিডিসি গত বছর এ নিয়ে গবেষণা করেছে। আইসিএমআর সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নজরদারি চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করা হচ্ছে।
জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা খিঁচুনি—এসব লক্ষণ হালকাভাবে নিলে বিপদ! সর্বনাশা ‘ঘিলুখেকো অ্যামিবা’ শরীরে ঢুকে পড়েনি তো? সচেতন থাকুন।


