চা বিক্রেতার মেয়ে এবার ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট

23

India Air Force: ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট হলেন আঁচল গাঙ্গওয়াল। মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে আরও প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে নিমুচের বাসস্ট্যান্ডে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়েই দিন গুজরান করেন সুরেশ গাঙ্গওয়াল। অদম্য জেদ ও নিরন্তর চেষ্টা থাকলে স্বপ্নেরা যে ডানা মেলে আকাশে ডানা মেলতে পারে সেটাই এবার সত্যি করে দেখালেন এই চা বিক্রেতার মেয়ে। সুরেশের ২৪ বছরের মেয়ে আঁচল গাঙ্গওয়াল দেখিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে চা-বিক্রেতার মেয়েও পারে বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের পাইলট হতে। মেয়ের এই স্বপ্নের উড়ানের সঙ্গী হতে পেরে তাই এখন মুখে চওড়া হাসি আর বুকে বল সুরেশ গাঙ্গওয়ালের। কিন্তু কবে থেকে এমন অসাধ্য সাধন করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তাঁর মেয়ে? 

গর্বিত বাবা জানান, “২০১৩ সালে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথে প্রকৃতির তাণ্ডব চলাকালীন যেভাবে বায়ুসেনার কর্মীরা অসম্ভব সাহসকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় মানুষদের সাহায্য করেছিলেন তা দেখেই রীতিমতো বায়ুসেনার প্রতি তীব্র ভালোবাসা তৈরি হয় মেয়ের। তখন থেকেই একজন ফ্লাইং অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে আঁচল, আর এখন সেই স্বপ্নই সত্যে হয়ে গেছে।”

আঁচল গাঙ্গওয়ালের বাবা সুরেশ গাঙ্গওয়াল আরও জানান যে, তাঁর স্বপ্নকে সত্যি করতে আঁচল বইপত্র জোগাড় করে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে। একবার-দু’বার নয়, পরপর পাঁচবার বায়ুসেনার পরীক্ষায় অসফল হলেও আশা ছাড়েননি আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখা তাঁর মেয়ে। 

শেষপর্যন্ত ষষ্ঠবারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন আঁচল। তাঁর বাবার কথায়, “আমি গত ২৫ বছর ধরে একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছি। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন যে আমার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন? অনেক সময় তো আমার মেয়ের স্কুল বা কলেজের ফি দেওয়ার জন্যেও টাকা থাকতো না আমার কাছে। সেই সময় আমি অনেকবার অন্যদের কাছ থেকে ধার নিয়েছি এবং ওর ফি দিয়েছি।” এই পরিস্থিতিতে যে শেষপর্যন্ত মেয়ে আঁচল গাঙ্গওয়াল ফ্লাইং অফিসার হতে পেরেছে তাতে তিনি গর্বিত, একথাও জানান সুরেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here