মাঝসমুদ্রে জেগে উঠে এই অবিশ্বাস্য এবং বিস্ময়কর মন্দির

34

গুজরাতের স্টম্বেশ্বর মহাদেব মন্দির রাজ্যের এক অবিশ্বাস্য এবং বিস্ময়কর মন্দির৷ এই মন্দির৷ প্রতিদিন সমুদ্রের জলে মিলিয়ে যায়। আবার জেগে ওঠে। এই ‘ডিজঅ্যাপিয়ারিং টেম্পল’ গুজরাতের উপকূলীয় অংশে কভি কম্বোই নামে ছোট্ট শহরে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয়, ঠিক যেন সেখানে ভক্তদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলেছেন স্বয়ং ভগবান। ১৫০ বছরের প্রাচীন এই মন্দির আরবসাগর ও ক্যাম্বি উপসাগরের মাঝে উপকূলীয় তটরেখার কাছেই অবস্থিত।

প্রতিদিন এই ‘ডিজঅ্যাপিয়ারিং টেম্পল’ জোয়ারের সময় জলের তলায় চলে যায়, আবার ভাঁটার সময় জলের উপরে চলে আসে এই মন্দির এবং চার ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ৷ এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে সকলে দূর থেকে আসে৷ পুরাণ মতে, এই শিব লিঙ্গ স্থাপন করেছিলেন ভগবান কার্তিক৷ শিব ঠাকুরের ছেলে কার্তিক তারকা অসুরকে বধ করার পর খুব নিজেকে দোষী মনে করছিল৷ তখন ভগবান বিষ্ণু তাঁকে শান্তনা দিয়ে বলেন যে শয়তানকে মারা অন্যায় নয়, কারণ এই শয়তান সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিত৷ তবে ভগবান কার্তিক, শিবের শিষ্যকে হত্যা করার অন্যায়ের প্রায়স্চিত্ত করতে চায়ছিলেন৷ তাই ভগবান বিষ্ণু তখন তাঁকে শিব লিঙ্গ স্থাপন করার পরামর্শ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেন৷

প্রতিদিন অসংখ্য দর্শক ও পুণ্যার্থী ভিড় করেন এই মন্দিরে। জোয়ারের জলে মন্দিরের মিলিয়ে যাওয়া এবং ফের ভাটার সময়ে মন্দিরের জেগে ওঠার সাক্ষী থাকতে। কাছাকাছি আর একটি দ্রষ্টব্য হল মাহী সাগর ও সবরমতী নদীর সঙ্গমস্থল। প্রতিদিন এখানে দূর দূরান্ত থেকে ভক্তদের ঢল নামে। সকালে মন্দিরে পুজো দেওয়া হয়। তারপর অপেক্ষা। চোখের সামনে একটু একটু করে সমুদ্রের জলে মিলিয়ে যায় দেবালয়। আবার ভাটার সময়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে স্তম্ভেশ্বর মন্দির। ভাটার সময় মন্দিরে পূর্ণমাত্রায় পুজো অর্চনা হয়। এমনকি, মন্দির লাগোয়া জমিতে ঘুরেও বেড়ানো যায়।

কভি কম্বোইতে কীভাবে যাবেন?

গুজরাতের ভাডোদারা থেকে কভি কম্বোই ৭৫ কিলোমিটার দূরত্বে৷ ভাডোদারা থেকে খুব সহজেই প্রাইভেট গাড়িতে করে যাওয়া যাবে স্টম্বেশ্বর মহাদেব মন্দিরে৷ ট্রেনে করে যেতে গেলে কভি কম্বোই-এর সব থেকে কাছে হচ্ছে ভাডোদারা রেল স্ট্যাশন৷ তবে সম্পূর্ণ ঘটনা দেখতে গেলে একটা গোটা দিন হাতে নিয়ে যাওয়াই ভালো৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here